হাইকোর্টের রায় বহাল: সংবিধান সংস্কার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন বার্তা

images (7)

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায়: বহাল হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট নিয়ে নতুন সাংবিধানিক আলোচনা

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীকে কেন্দ্র করে বহুল আলোচিত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট যে চারটি বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিলেন, আপিল বিভাগও সেই অবস্থান বহাল রেখেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই রায়ের ফলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সাংবিধানিক পথ উন্মুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধানও পুনরায় কার্যকর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ, যেখানে সংবিধানের নির্দিষ্ট বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগকে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, তা অসাংবিধানিক ঘোষণা বহাল রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৪৪(২) অনুচ্ছেদের আওতায় নিম্ন আদালতকে রিটের এখতিয়ার দেওয়ার বিধানও অসাংবিধানিক হিসেবে বহাল রয়েছে। ফলে আগের মতোই রিট আবেদন করার এখতিয়ার উচ্চ আদালতের কাছেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগের এই রায়ের পর সংবিধানের ভবিষ্যৎ সংস্কার, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অন্যান্য সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিষয় এখন জাতীয় সংসদের ওপর নির্ভর করবে। সংসদ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন আনতে পারবে।

তিনি আরও মন্তব্য করেন, সংবিধান একটি “লিভিং ডকুমেন্ট”। সময়, সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধানে পরিবর্তন আনা যেতে পারে। এটি কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় দলিল নয়; বরং জনগণের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময়ের সঙ্গে বিকশিত হওয়ার একটি সাংবিধানিক কাঠামো।

1 thought on “হাইকোর্টের রায় বহাল: সংবিধান সংস্কার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন বার্তা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।