আদালত কক্ষে প্রধান বিচারপতিকে গালিগালাজ এবং মামলার কাগজ-পত্র ছুড়ে মারলেন

প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টে শুনানিকালে আবেদনকারীর বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ

ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানিকালে এক আবেদনকারীর আচরণে সাময়িকভাবে আদালতের কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। শুনানির সময় তিনি এজলাসের ভেতরে মামলার কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে দেন।

ঘটনাটি ঘটে প্রভাল প্রতাপ নামে এক আবেদনকারীর আপিল শুনানির সময়। তিনি আইনজীবী ছাড়াই নিজেই নিজের মামলা পরিচালনা করছিলেন। তার আপিলটি ছিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি আদেশের বিরুদ্ধে। মামলাটি মূলত ভারতের ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৭৩ ধারার অধীনে করা একটি আবেদনকে প্রাইভেট কমপ্লেইন্ট মামলায় রূপান্তরের বিষয়কে কেন্দ্র করে।

শুনানির শুরুতেই আবেদনকারী বেঞ্চকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মি. জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, আমি আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছি এসিপি বিকাশ নাগরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিন।” এ সময় বিচারপতি কে. বিশ্বনাথন তার বক্তব্যের তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আপনি কি আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন?”

এর কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আবেদনকারী এজলাসের ভেতরেই মামলার নথিপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন। এতে আদালতকক্ষে সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। আবেদনকারীকে আদালতকক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপর বিচারপতিরা কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য না করে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী মামলাগুলোর শুনানি অব্যাহত রাখেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে এ ধরনের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বি.আর. গাভাইয়ের বেঞ্চে এক আইনজীবী শুনানিকালে জুতা খুলে ছুড়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন। সেবারও নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে প্রধান বিচারপতি জানান, ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।