গো-রক্ষকদের যাবজ্জীবন দেওয়ার পর মুসলিম নারী বিচারককে হত্যার হুমকি

নয়াদিল্লি, ১২ জুলাই: ভারতের মধ্যপ্রদেশে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ১৪ জন কথিত ‘গো-রক্ষককে’ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর মুসলিম নারী বিচারক তাবাসসুম খান তীব্র সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, ঘৃণামূলক প্রচারণা ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন। বিচারকের রায়ের আইনি বিশ্লেষণের পরিবর্তে তার ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মধ্যপ্রদেশের নর্মদাপুরম জেলার একটি আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান গত ১২ জুন এই রায় দেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, দাঙ্গা এবং বেআইনিভাবে মানুষকে আটকে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে নাজির আহমেদ নামে এক ট্রাকচালক গরু বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল স্বঘোষিত ‘গো-রক্ষক’ তাকে আটকায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা নাজির ও তার দুই সঙ্গীকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে মারধর করে। গুরুতর আহত নাজির পরে মারা যান, তবে তার দুই সঙ্গী পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন এবং আদালতে ঘটনার সাক্ষ্য দেন।

রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডটিকে “চরম বর্বর ও নৃশংস” বলে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার পর কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও দণ্ডিতদের পরিবারের সদস্যরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং বিচারকের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচারককে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য, হত্যার হুমকি এবং ধর্ষণ ও সহিংসতার উসকানিমূলক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নেয় এবং বিচারকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। ঘৃণাসূচক মন্তব্য ও হুমকি ছড়ানোর অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এদিকে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার এ ধরনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশটির Supreme Court Bar Association এবং Supreme Court Advocates-on-Record Association-সহ শীর্ষ আইনজীবী সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বিচারক তাবাসসুম খানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।

সূত্র: বিবিসি