আইনমন্ত্রীর দৃষ্টিতে ধর্ষণ মামলার জটিলতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার

Md Asaduzzaman

আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ, দাম্পত্য ধর্ষণ (মেরিটাল রেপ) এবং বিদ্যমান আইনগুলোর অসামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। তার মতে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং দেশের সামাজিক বাস্তবতা, বিচারিক অভিজ্ঞতা এবং অপব্যবহারের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এক আলোচনায় তিনি বলেন, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে হয়রানিমূলক ধর্ষণ মামলা দায়েরের অভিযোগ দেখা যায়। তাই প্রতিটি মামলার প্রকৃত ঘটনা ও প্রমাণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেরিটাল রেপ বিষয়ে নারী বিষয়ক কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক ও পারিবারিক বাস্তবতায় এ ধরনের বিধান অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ ও বিতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বৈবাহিক সম্পর্কে বিরোধ দেখা দিলে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামের মাধ্যমে বিচ্ছেদের একটি আইনি পথ রয়েছে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই ধরনের কোনো সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো না থাকায় অনেক বিরোধ শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলায় রূপ নেয়।

আইনমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে অনেক সময় শুধু স্বামী নয়, তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও ঢালাও মামলা করা হয়। এতে একদিকে নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার হন, অন্যদিকে আদালতে মামলার জটও বাড়ে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পর্নোগ্রাফি আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কিছু বিধানের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। নতুন নতুন আইন প্রণয়নের পরিবর্তে বিদ্যমান দণ্ডবিধি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনকে যুগোপযোগী করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট বিধানগুলোকে সমন্বিত করা হলে বিচারব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে পারে বলে তিনি মত দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।