বাংলাদেশে নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়নি কেন? আইনি জটিলতা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও বাস্তবতা

741000971_122180266988909938_8579466633764050578_n

বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও নারী আসামির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশেও নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির ফাঁসি কার্যকরের নজির অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৯২ জন নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। তবে তাদের কারও মৃত্যুদণ্ড এখনো কার্যকর হয়নি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে মোট ৪৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এ তালিকায় কোনো নারী নেই।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং উচ্চ আদালতের পুনর্বিবেচনা। নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেও হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স, আপিল এবং পরবর্তী আইনি ধাপগুলোতে অনেক ক্ষেত্রে সাজা কমে যায়। আদালত অপরাধের ধরন ছাড়াও মিটিগেটিং ও এগ্রিভেটিং সারকামস্ট্যান্স বা অপরাধ সংঘটনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেন। বিশেষ করে আসামির মাতৃত্ব, গর্ভাবস্থা কিংবা ছোট সন্তানের দায়িত্বের মতো বিষয়গুলোও বিচারিক সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পায়।

বর্তমানে ৯২ জন নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির মধ্যে ৮৬ জনের মামলা হাইকোর্টে এবং ৬ জনের মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো আসামি আপিল না করলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি ও সাজা অনুমোদনের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিচার ব্যবস্থায় নারী বা পুরুষ নয়, অপরাধের গুরুত্বই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য বিষয়। তাদের মতে, অপরাধীর লিঙ্গ নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।