নতুন জুয়া আইন কার্যকরের পরই মামলা, কেন ৪ দিনের রিমান্ডে দুই আসামি?

ঢাকা, ১৩ জুলাই: অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রণীত জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬–এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম শুনানি শেষে পৃথক আদেশে আসামি মো. আমিনুর ইসলাম (৩৭)–এর তিন দিনের এবং মো. সাকিব হোসেন (২৮)–এর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই জাকির হোসেন আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আংশিকভাবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রাকিবুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত অভিযোগ নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর বিষয়। তবে অভিযোগ উত্থাপন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য হন। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই রমনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই আমির হামজা

পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকা থেকে আমিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান এলাকা থেকে সাকিব হোসেনকে আটক করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, আমিনুর একটি মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের থানা পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউটর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বের অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ভুয়া পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক এমএফএস সিম সক্রিয় করে সহযোগীদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন সাইটের পেমেন্ট গেটওয়ে পরিচালনা করা হতো।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চক্রটি একটি বিশেষ ধরনের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে এমএফএস হিসাবসংক্রান্ত তথ্য ও এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহ করত। এরপর ওই হিসাবগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন আনুমানিক দুই থেকে তিন লাখ টাকার অবৈধ আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হতো বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন এবং ৫৯টি সক্রিয় এমএফএস সিম জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬–এর ২৪, ২৫ ও ২৭ ধারায় রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।