চেক ডিজঅনার মামলায় গ্রেপ্তার এড়ানোর উপায় কী? জানুন জামিন, আপিল ও আইনি প্রক্রিয়া

চেক মামলা

চেক মামলা

বাংলাদেশে চেক ডিজঅনার (Cheque Dishonor) বা নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলায় অভিযুক্ত হলেই কারাগারে যেতে হবে এমন ধারণা সঠিক নয়। আইনে এ ধরনের মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে জামিন, আত্মসমর্পণ এবং আপসের সুযোগ রয়েছে। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার পর কিছু বাধ্যতামূলক আইনি শর্তও মানতে হয়।

আইনজীবীদের মতে, চেক ডিজঅনার মামলায় আদালত থেকে সমন পেলে নির্ধারিত তারিখে আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করা উচিত। যেহেতু এ ধরনের মামলা জামিনযোগ্য (Bailable) এবং আপসযোগ্য (Compoundable), তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

যদি সমন যথাসময়ে না পৌঁছায় এবং এর মধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে পারেন। সাধারণত আদালত আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করে জামিন প্রদান করেন।

কোনো কারণে পুলিশ গ্রেপ্তার করলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতে যথাযথভাবে জামিন আবেদন করা হলে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রেপ্তারের দিনই জামিন লাভ সম্ভব।

মামলা বিচারাধীন অবস্থায় এক আদালত থেকে অন্য আদালতে স্থানান্তরিত হলে নতুন করে ফ্রেশ বেল (Fresh Bail) নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই মামলার প্রতিটি ধাপে আইনজীবীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আদালত যদি অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন, তাহলে আপিল করতে হলে আইনের বিধান অনুযায়ী জরিমানার বা নির্ধারিত অর্থের অন্তত ৫০ শতাংশ আদালতে জমা দিতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে সাধারণত জামিন পাওয়া যায় না এবং দণ্ড কার্যকর হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় শুধু কারাদণ্ড ভোগ করলেই আর্থিক দায় শেষ হয়ে যায় না। সাজা ভোগের পরও যদি পাওনা অর্থ পরিশোধ না করা হয়, তাহলে বাদীপক্ষ সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করে আইনগতভাবে সেই অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নিতে পারেন। ফলে শুরু থেকেই আইনি পরামর্শ নিয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।